আগামী শিক্ষাবর্ষেও আসছে না নতুন শিক্ষাক্রমের বই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার (২রা জুন) এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী আরো অনেকে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষাক্রম তৈরির কাজটি করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এখন শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে পাণ্ডুলিপি তৈরি করে ছাপানোও কঠিন হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাঁরা আগামী বছর থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে বই না দেওয়ার প্রস্তাব করলে সেটি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে আগামী বছরও বিদ্যমান শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই পাবে শিক্ষার্থী।

তবে নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে শিক্ষক নির্দেশিকা দেওয়া হবে জানান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা। যাদের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (উচ্চমাধ্যমিক) পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। পরিমার্জিত এই শিক্ষাক্রম হবে যোগ্যতা ও দক্ষতাভিত্তিক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সূক্ষ্ম চিন্তা, সৃজনশীল চিন্তাসহ ১০ ধরনের মূল দক্ষতা শেখানো হবে। এর সঙ্গে মিল রেখে ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীবন-জীবিকাসহ ১০টি বিষয় শেখানোর মধ্য দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণির বই দেওয়ার কথা ছিল। এরপর ২০২২ সালে প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সপ্তম, নবম ও একাদশ শ্রেণির বই দেওয়ার কথা ছিল। আর ২০২৩ সালে পঞ্চম, অষ্টম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বই দেওয়ার কথা ছিল। এখন আর আগামী বছর নতুন শিক্ষাক্রমে বই দেওয়া হচ্ছে না।

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তর (দশম শ্রেণি) পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে একই ধরনের বিষয় পড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে এখনকার মতো নবম শ্রেণি থেকে একজন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় শাখায় ভাগ করা হবে না। এই ভাগ হবে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে গিয়ে। তবে এটি হলেও ২০২৪ সাল থেকে চালু হতে পারে।

বর্তমানে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিদ্যমান শিক্ষাক্রম মূলত উদ্দেশ্যভিত্তিক ও শিখন ফলভিত্তিক। শিক্ষার্থীদের কী পড়ানো হবে, কেন পড়ানো হবে, কে পড়বে, কারা পড়াবেন ও কীভাবে পড়াবেন এবং পড়ার ফলে কী হবে—সেসবের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকে শিক্ষাক্রমে।

বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ বছর থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। পরিমার্জিত যে শিক্ষাক্রম তৈরি করা হচ্ছে তাতে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ধরা হয়েছে, যা শুরু হবে শিশুর চার বছর বয়স থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন
Total Page Visits: 90 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *