কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন আজ

বাংলার ধ্বনি ডেস্ক: দেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামাল। প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের এই স্বপ্নদ্রষ্টার ১০৯তম জন্মদিন আজ। লেখালেখির পাশাপাশি নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক দেশগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের নারী সমাজের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি। দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার ছিল দিপ্ত পদচারণা।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন : সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতার নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন।[২] তার বাবা কুমিল্লার বাসিন্দা ছিলেন। যে সময়ে সুফিয়া কামালের জন্ম তখন বাঙালি মুসলিম নারীদের গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হত। স্কুল-কলেজে পড়ার কোন সুযোগ তাদের ছিলো না। পরিবারে বাংলা ভাষার প্রবেশ একরকম নিষিদ্ধ ছিল। সেই বিরুদ্ধ পরিবেশে সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি পারিবারিক নানা উত্থানপতনের মধ্যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।

কর্মজীবন : কর্মজীবনে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত তিনি ‘কলকাতা কর্পোরেশন স্কুল’ এ শিক্ষকতা করেন। পরে ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

সাহিত্যচর্চা ও সংগ্রাম : তার লেখালেখি শুরু সেই শৈশব থেকেই। ১৯২৬ সালে মাত্র পনের বছর বয়সে সওগাত পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ পায়। তার প্রথম গ্রন্থ ছোটগল্পের বই ‘কেয়ার কান্তা’ প্রকাশ পায় ১৯৩৭ সালে এবং প্রথম কবিতার বই ‘সাঝের মায়া’ প্রকাশ পায় ১৯৩৮ সালে। ‘সাঝের মায়া’ গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এ বইয়ের প্রশংসা করেন। লেখালেখির বিভিন্ন সময়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়’র সাহচার্য পান। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এসেই নারী আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। বেগম সুফিয়া কামালের এরপরের জীবনও বর্ণাঢ্য। ১৯৫৬ সালে ‘কচিকাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬১ সালে ‘ছায়ানট’-এর সভাপতি, ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি, ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ গঠন এবং এই সময়ে অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেন।

পুরষ্কার ও সম্মাননা : সাহিত্য ও নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জীবিতকালেই কবি সুফিয়া কামাল অর্ধ শতাধিক পুরস্কার লাভ করেন। যার মধ্যে রয়েছে, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), লেনিন পদক (১৯৭০, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে), একুশে পদক (১৯৭৬), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৭৭), সংগ্রামী নারী পুরস্কার, চেকোশ্লোভাকিয়া (১৯৮১), মুক্তধারা পুরস্কার (১৯৮২), রোকেয়া পদক (১৯৯৬), দেশবন্ধু সি আর দাস গোল্ড মেডেল (১৯৯৬), জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (১৯৯৫), স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৯৭)। তিনি ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ পুরস্কার প্রত্যাখান করেন। সর্বশেষ তিনি ২০ জুন, ২০১৯ তারিখে তার ১০৮তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে গুগল ডুডল তৈরি করে সম্মাননা প্রদান করে।

মৃত্যু : ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর সুফিয়া কামাল মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন
Total Page Visits: 145 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *