বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে ঘাতকেরা চেয়েছিল বাঙ্গালী জাতীয়বাদের চেতনা মুছে দিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ বাঙ্গালীর স্বপ্ন আর স্বপ্নযাত্রার এক সূর্যোদয় বাংলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেঠো পথে ছুটে চলা বাবা মায়ের দুরন্ত খোকা, স্বাধীনতার লাল সূর্য চিনিয়ে আনার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলার মানুষের কাছে সবুজ নকশি কাঁথার মাঠ।
তিনি রাষ্ট্র,
তিনি পতাকা,
তিনি জাতির পিতা,
তিনি হিমালয়ের চূড়া,
উত্তাল সাগরের ঢেউ,
নির্যাতিত, নিপীড়িত, হত দরিদ্র মেহনতি মানুষের মুক্তির কাণ্ডারি।

জীবনের প্রতিটি ধাপে বাঙ্গালীর সার্বিক মুক্তির জয়োগান গেয়েছেন তিনি। যা প্রতিপালিত হয়েছে প্রতিটি কর্মে ও চিন্তায়। আপামর জনতার ভালোবাসায়।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরের সম্মেলনে পাকিস্তানি শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাতির জনক ঐতিহাসিক ৬দফা দাবি পেশ করেন।
১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার জেলে আটক বাঙ্গালীর প্রাণের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন।
বাঙ্গালী এই অবিচার মেনে নেয় নিই। উনসত্তরের উত্তাল গণ অভ্যুত্থান পাকিস্তান সরকার মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ রেসকোর্স ময়দায়ে প্রাণের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান করে। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও বাঙ্গালীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। অত্যাচারিত, নিপীড়িত বাঙ্গালীদের মুক্তি করতে বিচক্ষণ এই নেতা দিলেন স্বাধীনতার ডাক।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এলো বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের ঘোষণা। ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলার নিরহ মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হিংস্র পশুর মত। কালেক ক্ষেপণ না করে ২৬মার্চ ওয়ারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু।  তার ডাকে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাঙ্গালী পাই কাঙ্ক্ষিত বিজয়। বিশ্ব মানচিত্র জন্ম নেয় নতুন একটি দেশ বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। তার উদ্যোগে বাংলাদেশ ১৪২ টি দেশের স্বীকৃতি এবং জাতিসংঘ, কমন ওয়েলথ, ওআইসি সহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্য পদ লাভ করে। জাতিসংঘে প্রথমবারের মত বাংলায় ভাষণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু সারা বিশ্বে তোলেন আলোড়ন। বঙ্গবন্ধু আমাদের উপহার দিয়েছেন একটি স্বাধীন দেশ। দেশের জন্য জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি থেকেছেন ৪৬৮২দিন।
১৯৭৫ সালে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে এক দলীয় রাজনীতি ঘোষণা করার সাত মাস পর ১৫ই আগস্ট একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু।
তার স্বপ্নে ও আদর্শে বর্তমান বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির চরম শিকড়ে। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন প্রেরণা আর ভালোবাসা প্রতিক হয়ে।
বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে।

নিউজটি শেয়ার করুন
Total Page Visits: 500 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *